গত কয়েকদিনে হু হু করে বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সবজি আলুর দাম। প্রতি বছর বন্যা, সরবরাহ কম, আমদানি বন্ধ-এসবের দোহাই দিয়ে পণ্যের দাম বাড়লেও আলু ছিল স্থিতিশীল। তবে এ বছর আলু তার অতীতের সকল ভেঙে চড়া বাজারে স্থান করে নিয়েছে।
আলু দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারও দোলাচলবৃত্তির পরিচয় দিয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে খুচরা বাজারে ৩০ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করার নির্দেশনা দেয় সরকারের কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।
কিন্ত ব্যবসায়ীদের আপত্তির কারণে পুনরায় আলুর দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। ২০ অক্টোবর খুচরা বাজারে ৩৫ টাকা আলুর দাম নির্ধারণ করা হয় আর কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে হয় প্রতি কেজি ২৭ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে কেজি ৩০ টাকা।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার বলছে ৩৫ টাকায় আলু বিক্রি হবে, কিন্তু বাজারে তা হচ্ছে না। আবার টিসিবির গাড়ির সামনে দীর্ঘলাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে দুই ঘণ্টার পর ট্রাকের কাছে এসে শোনা যাচ্ছে আলু শেষ।’
বিক্রেতাদের দাবি, ‘আলুর সরবরাহ নেই, তাই সরকার দাম ধরে দিলেও তাদের কিছু করা নেই। এমনকি তারা পাইকারি বাজারে প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার ভয়ে আলু বাজারে আনছেন না। অনেক বাজার আলু শূন্য দেখা গেছে।’
মধ্যবাড্ডা বাজারে মাহফুজুর রহমান নামে এক আলু ক্রেতা বলেন, হায়রে আলু, সরকার বলে ৩০ টাকায়, আবার কইল ৩৫, গাড়িগুলো নাকি ২৫ টাকা বেচবে। বাজারে দেখি ৪৫ থেকে ৫০টাকা বিক্রি হচ্ছে। কোনটা বিশ্বাস করমু-বুঝি না। বাপের জন্মে শুনিনি আলুর এত দাম! জিনিসপত্রের দাম এমন জায়গায় গিয়ে ঠেকছে যা চাইবে তাই দিতে হবে।
তার সাথে গলা মিলিয়ে আরেক ক্রেতা বললেন, হ্যাঁ- সব সবজির দাম বাড়লেও কখনও শুনি নাই আলুর এত দাম হয়। সুপার শপগুলো নাকি আলু কম দামে বিক্রি করে, কিন্তু ওখানে গেলেও শুনি আলু শেষ! বাজারে কয়েকদিন আগে আমি ৫৫ টাকা কেজি দরে কিনলাম।
ক্রেতাদের মধ্যে আলুর লম্ফঝম্ফ নিয়ে এসব কথা শুনে আলু-পেঁয়াজ বিক্রেতা আর কতক্ষণ চুপ থাকেন? তিনিও বলে উঠলেন, ‘আরে ভাই দাম কমতে দেরি আছে, আগে তো নতুন আলু আইতে হইবো বাজারে!’
রামপুরা বাজারের আলু-পেঁয়াজ বিক্রেতা আবদুল মজিদ মিয়া বলেন, সরকার যাই বলুক, ৩০/৩৫ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব না। প্রশাসন বাজার তদারকি করে কিছু করতে পারবে না। কারণ, আলু এখন কৃষকের হাতে। সরবরাহ একবারেই কম।
এদিকে, বেধে দেয়া দামে আলু না বেচলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সরকারের নির্দেশনায় মাঠে কাজ করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন টিম। তবে নামেমাত্র বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তার অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারের দ্রবমূল্যের এমন দৃশ্য দীর্ঘ অব্যবস্থাপনার ফল।সরকার যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ার ফলেই দিনদিন অসাধু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।মোট কথা-যদি কাউকে আইনের আওতায় না আনা হয় তখনই সংকট সৃষ্টি হয়। এর ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, সাম্প্রতিকালে বেশকিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। বন্যায় ফসলি জমির ক্ষতি কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ কমেছে। কিন্তু চাহিদা তো আর কমেনি, এ কারণে দাম বেড়েছে। যদিও সরকারি বলছে আলুর উৎপাদন অনেক বেশি। যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে আলুর দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।