বিকাল ৩:০৭ শনিবার ৯ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ২৮শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি

হোম দেশ পেঁয়াজের পর চাল, ডাল, তেলের দামও চড়া

পেঁয়াজের পর চাল, ডাল, তেলের দামও চড়া

লিখেছেন sayeed
Spread the love

দেশের বাজারে কোনো পণ্যের দাম একবার বাড়লে তা আর কমতেই চায় না। চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে পেঁয়াজের দ্বিগুণ দাম চেপে বসে ভোক্তার ঘাড়ে। সেই বোঝা এখনও নামেনি। তারপর আবার বেড়েছে চাল, ডাল ও তেলের দাম। এ যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’।

পাইকারিতে দাম কমলেও নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ আগের চড়া দামেই (৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি) বিক্রি হচ্ছে। একই চিত্র আমদানি করা পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও। গত এক সপ্তাহে কেজিতে ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে চালের দাম। ভোজ্য তেল সয়াবিনে বেড়েছে পাঁচ টাকা পর্যন্ত। মসুর ডালে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত।

প্রয়োজনীয় এসব নিত্যপণ্যের দামে নাকাল ভোক্তা। অথচ বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চারটি পণ্যই ভর্তুকি মূল্যে খোলাবাজারে বিক্রি করছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান জোরদার করার দাবি জানিয়েছে ভোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট মহল।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, ফকিরাপুল, কমলাপুর, মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কাঁচা বাজার, খিলগাঁও ও মালিবাগ বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা ও আমদানি করা এলসি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজিদরে।

আর শ্যামবাজার পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৬ থেকে ৭০ টাকা ও আমদানি করা এলসি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫১ টাকা কেজিদরে।

দামের ভিন্নতা নিয়ে খিলগাঁও বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের আগের পেঁয়াজ কেনা আছে, এখন বলা যায় লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করছি। এরমধ্যে কিছু পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। এসব বাজারে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে বর্তমানে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। আর ভারতীয় কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজিদরে।

কাঁচা মরিচের দাম বাড়ার বিষয়ে এক ব্যবসায়ী বলেন, কাঁচা বাজারে দাম সবসময় পরিবর্তন হয়। মালামালের সরবরাহ কম হলে দাম বেড়ে যায়। এখন বাজারে কাঁচা মরিচ কম সরবরাহ হচ্ছে তাই দাম বেশি।

এছাড়া বাজারে শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকায়, পেঁপে ৪০-৬০ টাকা, করলা ৫০-৭০ টাকা, পাকা টমেটো ১২০-১৪০ টাকা, শিম ১২০-১৪০ টাকা, গাজর ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ৬০-৮০ টাকা, বেগুন ৫০-৭০ টাকা, ঝিঙে ৫০-৬০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শীতের আগাম সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকায়।

খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৩ টাকা লিটার। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৮৫-৮৮ টাকায়। অর্থাৎ লিটারে বেড়েছে পাঁচ টাকা। পাম সুপার তেল বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা লিটার। আগে ছিল ৭৫-৮০ টাকা।

চলতি সপ্তাহে মসুর ডালের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে খুচরায় মাঝারি দানার ডাল কেজি ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। কারওয়ান বাজার ও মৌলভীবাজারে গতকাল পাইকারিতে এ মানের ডাল বিক্রি হয়েছে ৭৬-৭৮ টাকা কেজি দরে, যা আগের দিনও ৬৯-৭২ টাকা ছিল।

বড় দানার মসুর ডালের দামও পাইকারি বাজারে চলতি সপ্তাহে কেজিতে বেড়েছে চার টাকা পর্যন্ত। ৫৮-৬০ টাকা কেজির ডাল এখন ৬২-৬৩ টাকা। বড় দানার ডাল কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা পর্যন্ত।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব দেশ থেকে ডাল আসে সেসব দেশে করোনার প্রভাব অনেক বেশি। ফলে তাদের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে দামও বাড়ছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে মোটা চাল গুটি ও স্বর্ণা ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও এসব চালের কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকা ছিল। মাঝারি মানের চাল লতা, পাইজাম ও ব্রি-২৮ খুচরা বিক্রেতারা ৪৮-৫০ টাকায় বিক্রি করছেন, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫-৪৬ টাকা। সরু চাল সাধারণ মানের মিনিকেটের কেজি ৫৮-৬০ টাকায় পৌঁছেছে, যা ছিল ৫২-৫৪ টাকা। যে মানের মিনিকেট ও নাজিরশাইল আগে ৫৫-৬০ টাকা কেজি ছিল, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়।

বিক্রেতারা বলছেন, মোটা চাল এখন আড়তে খুব একটা পাওয়া যায় না। দু-একটিতে বিক্রি হলেও দাম বেশি।
দেশে ২০১৭ সালে হাওরে ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল। তাছাড়া চালের বাজার তিন-চার দিন আগে হঠাৎ অস্থির হয়ে ওঠে। পাইকারি বাজারে বাড়তি হওয়ায় আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

You may also like

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More