রাত ৮:৪৫ বৃহস্পতিবার ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২৬শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

হোম অন্যান্যইতিহাস ইতিহাসের বিস্ময়কর ছয়টি জায়গা

ইতিহাসের বিস্ময়কর ছয়টি জায়গা

লিখেছেন Fahmid Souror
বিস্ময়কর ছয়টি জায়গা-durantobd.com
Spread the love

ঐতিহাসিক আশ্চর্য স্থানের নাম আসতেই সাধারণত চীনের মহাপ্রাচীর, ভারতের তাজমহল কিংবা মিশরে প্রাচীরের কথাই আমাদের মনে ভেসে আসে। জায়গাগুলি নিয়ে এতো বেশি আলোচনা হয়েছে যে অন্য স্থানগুলির নাম মনে না আসাইটাই স্বাভাবিক। তবে আজ আমরা প্রায় অজানা ইতিহাসের বিস্ময়কর ছয়টি জায়গা সম্পর্কে জানবো।

চলুন তাহলে ঘুরে আসা যাক-

বানাউ রাইস টেরেস

বানাউ রাইস টেরেস

বানাউ রাইস টেরেস, ফিলিপাইন

চারপাশে সবুজে ঢাকা পাহাড় আর ঠিক মাঝখানে ছোট গ্রাম। পাহাড়গুলোকে এমনভাবে কেটে তৈরি করা হয়েছে দূর থেকে দেখলে মনে হবে কেউ যেন কয়েক স্তরের একটি সবুজ একটি কেক তৈরি করে রেখেছে।

পাহাড় কেটে বানানো ধানের ক্ষেতকে সনবুজের গালিচা বললেও কম বলা হবে।

মনে মনে একটা দৃশ্যটা ভাবুন তো, কেমন লাগছে! ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ও পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য খ্যাত বানাউ রাইস টেরেস ফিলিপাইনের সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় পাঁচ হাজার ফিট উপরে অবস্থিত। ২০০০ বছর আগে এখানকার মানুষরা চাষাবাদ করার জন্য সাধারণ উপকরণ দিয়ে পাহাড় কেটেছিল। অবসরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য ফিলিপাইনের বানাউ রাইস টেরেস হতে পারে উপযুক্ত একটি জায়গা।

হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ারের শেষ দৃশ্যটি এখানেই ক্যামেরাবন্দি করা হয়।

বাগান

বাগান

বাগান, মিয়ানমার

বাগানকে বলা হয় মন্দিরের শহর (আসলে প্যাগোডা)। মন্দিরগুলো নবম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত এই শহরে এক সময় দশ হাজারেরও বেশি প্যাগোডা ছিল। কালের আর্বতে তার বেশিরভাগই আজ নেই। তবে যে হাজার তিনেকের মতো প্যাগোডা রয়েছে সেগুলোই আপনার চোখ জুড়িয়ে দেবে।

২০১৯ সালে বাগানকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা দেওয়া হয়েছে।

ঘোরার জন্য এখানে রয়েছে অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা।

প্রত্নতত্ত্ব, স্থাপত্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন আর সৌন্দর্য সবকিছু মিলিয়ে বাগানি হতে পারে ঘোরার জন্য পারফেক্ট প্যাকেজ।

সিগিরিয়া

সিগিরিয়া

সিগিরিয়া, শ্রীলংকা

সিগিরিয়া শ্রীলংকার দৃষ্টিনন্দন ও ঐতিহ্যবাহী গুহামন্দির।  প্রায় ৬০০ ফুট এক পাথর কেটে এই মন্দির বানানো হয়েছে। এই পাথরটিকেই সিগিরিয়া রক বলা হয়। চৌদ্দ শতক পর্যন্ত এটি বৌদ্ধমন্দির হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

দেশটির দাম্বুলা ও হাবারানে শহরের মাঝে অবস্থিত এই দূর্গ দেখতে প্রতিবছর লাখো পর্যটক ছুটে আসেন।

প্রাসাদের প্রবেশপথটি দেখতে বিশাল এক সিংহমূর্তির মতো।

প্রাচীন এই স্থাপনাটির চারপাশে রয়েছে সবুজে ঘেরা পাহাড় ও বনভূমি এছাড়া রয়েছে বাগান, পুকুর, দেয়ালচিত্র দেখার সুযোগ।

অজন্তা ও ইলোরা-durantobd.com

অজন্তা ও ইলোরা

অজন্তা ও ইলোরা, ভারত

অজন্তা ও ইলোরা দুটি প্রাচীর গুহার নাম। এখানে রয়েছে অনেকগুলো গুহামন্দির।

হলিডিফাই ওয়েবসাইটের তথ্যমতে,  ভারতের মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গবাদ শহর থেকে প্রায় ১০২ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই দুটি প্রাচীন নিদর্শন।

খ্রীস্টপূর্ব ২০০ অব্দি থেকে ৬০০ খ্রীস্টাব্দ সময়ের মধ্যে নির্মিত এই বৌদ্ধ মন্দির ও মঠগুলো শিল্পকর্মের মহিমার জন্য আজও অসাধারণ এক অপূর্ব শৈলী হিসেবে মানুষের হৃদয়ে স্থান গেড়ে আছে।

আরো পড়ুন: 

সাপ-বেজির তুমুল লড়াই, কে জিতল? (ভিডিও)

সামরিক শক্তিতে সব থেকে এগিয়ে যে দেশ

যেসব মুসলিম দেশে হিজাব-নেকাব নিষিদ্ধ, অমান্যে শাস্তি

অজন্তার ঠিক ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে ইলোরা গ্রামে ইলোরা গুহাচিত্রগুলো অবস্থিত। সব গুহামন্দির পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে।

১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো এটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

বালবেক-durantobd.com

বালবেক

বালবেক, লেবানন

লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে ৪২ মাইল দূরে অবস্থিত বালবেক একটা সময় প্রচুর্য আর খ্যাতির তুঙ্গে ছিল।

রোমান সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, দুর্গ ও মন্দির ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। রোমান সাম্রাজের সময় এখানে তিন দেবতার (জুপিটার, ভেনাস ও মার্কারি) উপাসনা করা হতো। এটি ছিল রোমানদের কাছে তীর্থভূমি। সিরিয়া সীমান্তে অবস্থিত বালবেক শহরটি পৃথিবীর বৃহত্তম রোমান ধ্বংসাবশেষ ধারণ করে আছে।

ত্রিস্তম্ভবিশিষ্ট তিনটি উপাসনালয়টির নিচে রয়েছে ৮০০ টন ওজনের তিনটি বিশাল পাথর।

ডেরিনকুয়ু-durandobd.com

ডেরিনকুয়ু

ডেরিনকুয়ু, তুরস্ক

তুরস্কের নেভশেহির প্রদেশের কাপাডোশিয়ার মাটির নিচের অবস্থিত প্রাচীন এক শহরের নাম ডেরিনকুয়ু।

ভূগর্ভস্থ এই গুহাগুলো মানুষকে বিস্মিত ও শিহরিত করেছে। অসম্ভব চমৎকার স্থাপত্য কীর্তির এই গুহাগুলো খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে নির্মিত। পাতাল এই শহরটিতে কি ছিল না! বাড়িঘর, কুয়া, প্রশস্ত রাস্তা, টর্চার সেল, গবাদি পশুর স্থান, সামাজিক বিনোদন কেন্দ্র,  আস্তাবল, চার্চ, কবরস্থান, স্কুল সবকিছুই ছিল সেখান। বিলুপ্ত ফ্রিজিয়ান ভাষায় এখানে অসংখ্য শিলালিপি উদ্ধার করা হয়েছে।

শহরটি এমনভাবে গড়ে তোলা হয় যেখানে এক সাথে বিশ হাজার বসবাস করতে পারে।

মাটির নিচে আবিষ্কৃত হওয়া এই শহরটি একবার নিজের চোখে দেখার জন্য প্রতি বছর বহু পর্যটক সেখানে যান।

সুযোগ পেলে এই বিস্ময়কর ছয়টি জায়গা থেকে ঘুরে আসতে পারেন আপনিও।

আরো পড়ুন:

বিশ্বের আলোচিত সরকার প্রধানদের কার বেতন কত?

বিশ্বের ৭ ধর্মহীন দেশ, সৃষ্টিকর্তা নিয়ে যা ভাবেন তারা

কোন কাজেই বাধা নেই আজব এ জেলখানায়! (ভিডিও)

যেভাবে তৈরি করা হচ্ছে করোনার ভ্যাকসিন

বিশ্বের প্রথম স্বর্ণের হোটেল, এক রাতের ভাড়া কত?

চীনকে সরিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হতে ভারতের যা দরকার

You may also like

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More