রাত ১০:২১ শনিবার ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

হোম খেলা সুখের সংসারে কুচ্ছিত বিচ্ছেদ

সুখের সংসারে কুচ্ছিত বিচ্ছেদ

লিখেছেন মামুন শেখ
সুখের সংসারে কুচ্ছিত বিচ্ছেদ-durantobd.com
Spread the love

ফাহমিদ সৌরভ

২০ বছরের সংসার। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর ন্যাপকিন কাগজে সই করে বার্সেলোনার সাথে গাঁটছাড়া বেধেছিলেন লিওনেল মেসি। দুই দশক পর ভাঙতে বসেছে বার্সা-মেসির সংসার।

যদি সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে আগামী মৌসুমে অন্য কোনো ক্লাবের হয়ে খেলবেন মেসি, স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো কিন্তু সেই তথ্যই জানাচ্ছে। যদিও এখনো কাগজে কলমের বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে তবে এটা সত্য যে, বার্সেলোনার হয়ে আর খেলতে রাজি নন এই গ্রহের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবলারটি। বলাই বাহুল্য, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৮-২ হারের পরই বার্সা ছাড়তে উঠেপড়ে লেগেছেন মেসি।

গত দেড় যুগ ধরে মেসি যেন বার্সেলোনা ও ফুটবলেরই সমার্থক শব্দ। কাতালান ক্লাবটি যেমন মেসি ছাড়া চিন্তা করা যায় না, ঠিক তেমনি ফুটবলকেও মেসি ছাড়া ভাবাই যায় না। তবে অবশেষে বার্সেলোনা ছেড়ে অন্য কোনো ঘর ক্লাবে ক্যারিয়ার ইতি টানতে চান আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর। শেষমেষ কোন ক্লাবের হয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংসটা শুরু করেন সেটা জানতে অধীর আগ্রহ এখন ফুটবলভক্তদের।

মেসির এভাবে বার্সেলোনা ছাড়ার বিষয়টা অনেকেই যেমন মেনে নিতে পারছেন না, উল্টোদিকে ফুটবলের সবচেয়ে সফল তারকার এমন সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন কার্লোস পুয়োল, গ্যারি লিনেকারের মতো অনেক ফুটবলবোদ্ধা।

প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক। কি এমন হলো যে শেষ পর্যন্ত ক্লাব ছাড়ার মতো কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিতে হলো মেসিকে!

ফুটবলবোদ্ধারা অনেকেই অনেকভাবে বিষয়টির ব্যাখ্যায় নেমেছেন। অনেকে বলছেন কোচ রোনাল্ড কোম্যানের কারণেই নাকি ক্লাব ছাড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মেসি। শোনা যাচ্ছে, দায়িত্ব নেওয়ার ষষ্ঠ দিনের মাথায় নাকি মেসিকে কড়া কথা শুনিয়ে দেন কোচ। মেসি আগের যেসব সুবিধা পেতেন সেগুলো নাকি বন্ধ করে দেওয়ার কথা মেসিকে জানান তিনি।

এটাও শোনা যাচ্ছে যে, কাতালান ক্লাবটির কর্তাব্যক্তিদের ওপর চরমভাবে নাখোশ মেসি, বিশেষ করে এক সময়ের সতীর্থ ও সাবেক স্পোর্টিং ডিরেক্টর এরিক আবিদালের ওপর। টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নেওয়ার দায়টা মেসি ও সিনিয়র ফুটবলারদের ওপর চাপান আবিদাল। বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেননি মেসি। আবিদালের নামে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগও করেন তিনি। তবে বোর্ডের তরফ থেকে সদুত্তর না পাওয়ায় বার্সেলোনা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন তিনি।

তবে বার্সেলোনা ছাড়ার পেছনে মেসিকে সম্ভবত সবচেয়ে প্রভাবিত করেছেন লুইস সুয়ারেজ। গত কয়েক বছর ধরে আক্রমণভাগে মেসি-সুয়ারেজ যুগল বার্সেলোনাকে এক ডজনের বেশি শিরোপা জিতিয়েছে। বার্সার হয়ে তৃতীয় সবোর্চ্চ গোলদাতাকে মাত্র এক মিনিটের ফোনালাপে বরখাস্ত করেন কোচ রোনাল্ড কোম্যান। বন্ধুর প্রতি এমন দুর্ব্যবহার বার্সেলোনা ছাড়তে মেসিকে উৎসাহ যুগিয়েছেন বলেও মনে করছেন অনেকে।

বার্সেলোনার অভ্যন্তরীণ কোন্দলও মেসির ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। গত কয়েক বছর ধরে সেরা একাদশ সাজাতেই সমস্যায় পড়তে হয়েছে কাতালান ক্লাবটিকে। একের পর এক বদলেছে কোচ। আর্নেস্তো ভালভার্দের ওপর বিশ্বাস ছিল মেসির। গার্দিওলার পর এই প্রথম আবার কোচে মন বসেছিল তার। তবে অভিজ্ঞ আর্নেস্তোর জায়গায় অনভিজ্ঞ সেতিয়েনের আগমনটা ভালোভাবে নেননি মেসি।

নেইমারসহ বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার দল ছেড়েছেন, নতুন যাদের দলে ভেড়ানো হয়েছে তাদের পারফরম্যান্সও খুব একটা ভালো ছিল না। পিএসজিতে নেইমারের ভালো লাগছিল না বলে ব্রাজিল তারকা আবার ফিরতে চেয়েছিলেন বার্সায়। মেসিও রাজি ছিলেন। খোদ নিজেই প্রস্তাব দিয়েছিলেন বোর্ডের কাছে; তবে নেইমারকে ফেরায়নি বার্সা। সেই কারণেই বার্সেলোনার বর্তমান সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ ও তার নেতৃত্বাধীন বোর্ডের ওপর বিরক্ত ছিলেন লিওনেল মেসি।

সীমাহীন চাপ ও বার্সার মেসিনির্ভরতাও বেশ ভুগিয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকরকে। দল বাজে পারফরম্যান্স করলেই যেন সব দায় চাপে মেসির ওপর। যেন এক মেসিই বার্সেলোনাকে টেনে নেওয়ার দায়িত্বটা একা নিজের ঘাড়ে নিয়েছেন। নিয়মিতভাবে লা লিগা নিজেদের দখলে রাখলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ২০১৪-১৫ এর পর বেশ বিবর্ণ বার্সেলোনা। দায়টাও এসে পড়েছে মেসির ঘাড়ে। প্রতিনিয়ত এনিয়ে কথা শুনতে হয়েছে তাকে।

সবকিছু ঠিক থাকলে বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচটাই হয়তো বার্সেলোনার হয়ে মেসির শেষ ম্যাচ। শোনা যাচ্ছে, মেসিকে অতো সহজে ছাড়তে চায় না বার্সেলোনা। মেসিকে যদি কোনো ক্লাব এখন কিনতে চায় তাহলে পরিশোধ করতে হবে ৭০০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি। এতো টাকা খরচ করে কেউ মেসিকে কিনবে কিনা সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। আর ম্যান সিটি বা পিএসজির মতো ক্লাবগুলো যদি মেসিকে এই মৌসুমেই কিনে ফেলে তাহলে বার্সেলোনার মতো সফলতার দেখা কি ৩৩ বছর বয়সে এসে আর পাবেন তিনি?

ভবিষ্যতে কি ঘটবে সেটা নিয়ে আপাতত ভাবছেন না মেসিভক্তরা, চাইছেন মেসি যেন বার্সাতেই থাকেন। ক্লাবের সামনে আন্দোলনেও নেমে পড়েছেন তারা। বার্সেলোনার বোর্ডও মেসিকে ধরে রাখতে বদ্ধ পরিকর, সম্ভাব্য সকল কিছু করার ঘোষণা ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে ক্লাবের পক্ষ থেকে। ভক্ত, ক্লাবকর্তাদের এই আবেদন কি রাখবেন মেসি, নাকি শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথেই পা বাড়াবেন? অপেক্ষায় ফুটবলবিশ্ব।

You may also like

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More