রাত ১:৫৬ রবিবার ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

হোম দুরন্ত-চুয়াডাঙ্গা স্বল্প পুঁজিতে শরিফা চাষে লাখপতি জীবননগরের সাদ্দাম (ভিডিও)

স্বল্প পুঁজিতে শরিফা চাষে লাখপতি জীবননগরের সাদ্দাম (ভিডিও)

লিখেছেন kajol khan
sorifa_durantobd
Spread the love

মিঠুন মাহমুদ: জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

জীবননগর উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শরিফা ( মেওয়া ফল) চাষ হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামে শরিফা থাই বারোমাসি ফল চাষ করে যাদুকারী সাফল্য পেয়েছেন তরুণ এই উদ্যোক্তা ।

২০১৫ সালে লাগানো বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে সুন্দর সবুজ ও সোনালী রঙ্গের সু-মিষ্ট শরিফা ফল। বাণিজ্যিক ভাবে লাভ জনক হওয়ায় শরিফা ফল চাষে আগ্রহী হয়েছে অনেকে। জীবননগর উপজেলার মাটি সব ফসলের জন্য উপযোগী হলেও এই প্রথম একজন শিক্ষিত উদ্যমী শরিফা ফল চাষী রায়পুর গ্রামের রুহুল কুদ্দুসের ছেলে সাদ্দাম হোসেন শরিফা ফল চাষ করে সফল হয়েছেন।

জানা গেছে,২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামে সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে পরীক্ষামুলকভাবে শরিফা ফল বারোমাসি জাতের ৪শ টি চারা রোপণ করেন কৃষক সাদ্দাম হোসেন। চারা লাগানোর পর নিবিড় পরিচর্যা ও জৈব প্রযুক্তি (কেঁচো সার) ব্যবহার করে মাত্র এক বছর বয়সে সামান্য পরিমাণ ফলন আসলেও এবার প্রতিটি গাছে ৩৫ থেকে ৪০ কেজি ফল ধরছে। রায়পুর বাজারের পাশে সাদ্দামের স্বপ্নের শরিফা ফলের বাগানে গিয়ে দেখা যায়। ছোট ছোট শরিফা ফল গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় ফল।

তিনি জানান, প্রথম দিকে একটু খরচ হলেও পরবর্তী বছরে গাছে ফল ধরা শুরু হয়। প্রতিটি গাছে ৩৫ থেকে ৪০ কেজি করে ফল ধরেছে। প্রতি বিঘা জমিতে বছরে খরচ হয় ১৫ থেকে ১৮হাজার টাকা। প্রতি কেজি ফল বিক্রয় করা হয় সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকা কেজি দরে। এ ফলনে দারুণ খুশি চাষী সাদ্দাম হোসেন।

তার বাগানে উৎপাদিত শরিফা ফল বিদেশ হতে আমদানিকৃত যে কোন ফলের চেয়ে রসালো সুস্বাদু এবং বেশি মিষ্টি। তার সাফল্য দেখে অনেকে শরিফা ফল চাষ করছেন এবং তার বাগানে আসছেন মানসম্মত চারা সংগ্রহের জন্য। চলতি বছরে প্রায় ১৬বিঘা জমিতে লাগানো চারা সরবরাহ করছেন বলে তিনি জানান।

শুধু শরিফা ফল চাষ নয় তিনি ইতোমধ্যেই পেয়ারা,মাল্টা,নতুন করে একই সাথে আপেলের চাষ শুরু করেছেন। এ সমস্ত ফল নিজের বাগানে প্যাকেট জাত করে রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজার,উত্তরাসহ শহরের বেশ কিছু পাইকারী ফলের আড়তে বিক্রয় করে থাকে।

জীবননগর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, শরিফা ফল চাষী সাদ্দাম হোসেন একজন সৎ ও সচেতন চাষী। সে সম্পন্ন রাসায়নিক মুক্তভাবে জৈব সার এবং জৈব বালাই নাশক ব্যবহার করে শরিফা ফল চাষ করছেন। কৃষি বিভাগ তার সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে যা আগামীতে অব্যহত থাকবে।

আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জীবননগর উপজেলায় ব্যাপক হারে শরিফা ফল চাষে বিপ্লব ঘটবে। সরকারী বেসরকারি ভাবে কৃষকদের শরিফা ফলসহ নানা ধরনের ফলের চাষে উৎসাহিত করা হলে আমদানি নির্ভরতা কমার ফলে দেশের অর্থনীতিতে দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

You may also like

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More